সততা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মানসিকতাসম্পন্ন নেতৃত্বের প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের
মুরাদ মিয়া, তাহিরপুর প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলোর একটি ইউনিয়ন পরিষদ। একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচারের বড় অংশ নির্ভর করে জনপ্রতিনিধিদের কর্মদক্ষতা ও সততার ওপর। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুধু ভোটের প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি এলাকার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণেরও বিষয়।
তাহিরপুর উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এবার এমন জনপ্রতিনিধি চান যিনি সৎ, জনবান্ধব, শিক্ষিত, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন। ইউনিয়নবাসীর মতে, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু নির্বাচনের পর জনগণের পাশে থাকা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির পরিচয়।
স্থানীয়দের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় গুণ হওয়া উচিত সততা। সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হয় এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি যেন স্থান না পায়। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত চরিত্র, নৈতিকতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।
তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা, নেতৃত্বে এমন মানুষ আসুক যিনি আধুনিক চিন্তাধারার পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। ইউনিয়নের শিক্ষা ব্যবস্থা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতাও তারা দেখতে চান।
ইউনিয়নবাসীর মতে, জনপ্রতিনিধি হতে হবে সহজ-সরল ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী কিংবা প্রবীণ নাগরিক—সবাই যেন সহজে তার কাছে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। নির্বাচনের আগে যেমন জনগণের পাশে থাকবেন, নির্বাচনের পরও তেমনি দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে।
স্থানীয়রা আরও মনে করেন, মাদক, সন্ত্রাস ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব। কারণ এসব সামাজিক ব্যাধি তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এছাড়া বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, অসুস্থতা কিংবা অন্য যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম নেতৃত্বের প্রত্যাশাও ইউনিয়নবাসীর মধ্যে রয়েছে। তাদের মতে, জনপ্রতিনিধির পদ কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা বা কালভার্ট নির্মাণ নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি, সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনও উন্নয়নের অংশ। তাই তারা এবার এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চান, যিনি কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম।
স্থানীয়দের ভাষায়, ‘পোস্টার, অর্থ বা বড় বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে একজন মানুষের সততা, চরিত্র ও জনসেবার মানসিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন ভালো জনপ্রতিনিধি পুরো ইউনিয়নের পরিবেশ বদলে দিতে পারেন, আর একজন দায়িত্বহীন প্রতিনিধি সমাজকে পিছিয়ে দিতে পারেন।’
