সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ভারত থেকে আনা দুই সন্তানকে প্রথম স্ত্রীর সন্তান পরিচয়ে জন্মসনদ করে দেওয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ ও তাঁর সন্তানদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক তরুণীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী আব্দুল মালেকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী খোরপোষ না দিয়ে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংসারের ব্যয়ভার ও সন্তানদের দায়িত্বও দীর্ঘদিন ধরে তাকেই বহন করতে হয়েছে বলে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে আব্দুল মালেক ভারতে চলে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন এবং ওই সংসারে তাঁর দুই সন্তান জন্ম নেয়। সম্প্রতি তিনি সন্তান দুটিকে নিয়ে দেশে ফিরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রথম স্ত্রীর সন্তান পরিচয়ে জন্মসনদ করে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
এতে প্রথম স্ত্রী রাজি না হওয়ায় পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, ভারতে বিয়ে করার পর তাঁর স্বামী আরও একটি বিয়ে করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে উত্তেজনা দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ৭ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল মালেক তাঁর তৃতীয় স্ত্রী মাজেদা আক্তারসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। নতুন স্ত্রীকে ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় মাহফুজা জান্নাত তারিন, তানজিদ আহমদ, তাহমিদ আহমদ ও তাবাসসুম আক্তার আহত হন। পরিবারের অভিযোগ, হামলার পর তাঁদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয় যাতে কেউ বাইরে গিয়ে সাহায্য চাইতে না পারেন।
পরে কোনোভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে জকিগঞ্জ থানা-পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। আহতদের জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত মাহফুজা জান্নাত তারিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই নারী ও তাঁর সন্তানরা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।