আত্মশুদ্ধি ও তাসাউফ চর্চার আহ্বান উলামায়ে কেরামের
জকিগঞ্জ উপজেলার থানাবাজার এলাকার দরিয়াবাদে মরহুম আব্দুর রহমান সাহেবের বাড়িতে ৩য় বার্ষিক খানকা ও ঈসালে সাওয়াব মাহফিল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ব্যাপক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই মাহফিলে দ্বীনী ইলম, তাসাউফ, আখলাক ও আত্মগঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন আমন্ত্রিত উলামায়ে কেরাম।মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওলাদে রাসুল সাইয়্যিদ খালেদ আহমদ মাদানী আল-হোসাইনী (উজানডিহী, ভারত)। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সুন্নাহভিত্তিক জীবন, আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শ এবং আত্মশুদ্ধির চর্চা অপরিহার্য।
আমন্ত্রিত উলামায়ে কেরামের মধ্যে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন— মাও. উবায়দুর রহমান ছাহেবজাদায়ে বালাউটি, মাও. আব্দুল মুক্তাদির খান (অধ্যক্ষ, মিয়ারবাজার আলিম মাদ্রাসা), মাওলানা কবি পিয়ার মাহমুদ (ভাইস-প্রিন্সিপাল, মিয়ারবাজার আলিম মাদ্রাসা, বিশ্বনাথ), মাও. শফিকুর রহমান মনসুরপুরী, মাও. সুয়েদ আহমদ জগন্নাথপুরী, শাহ মুসাদ্দিকুর রহমান বালাউটি, মাও. মুজিবুর রহমান, মাওলানা জুনেদ আহমদ ও সৈয়দ দিলাল আহমদ।
বক্তারা মরহুম আব্দুর রহমান সাহেবের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, খানকা ও ঈসালে সাওয়াব মাহফিল মুসলমানদের ঈমানি চেতনা জাগ্রত করে এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ, সহ-সভাপতি আব্দুল মুকিত, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আহমদ হোসাইন আইমান, সাংবাদিক এনামুল হক মুন্না, ইউপি সদস্য আব্দুল বাছিত, মাস্টার আতাউর রহমান, জিয়াউর রহমান এবং মহানগর তালামীযের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মাহফিলের একপর্যায়ে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় কিছুদিন পূর্বে ইন্তেকালকারী বিশিষ্ট শালিস ব্যক্তিত্ব মাহতাব উদ্দিন মেম্বার সাহেবকে। তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনায় পৃথক বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
মাহফিলের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা ময়নুল আল মামুন, উবায়দুল হক গিলমান ও আমিনুল ইসলাম জামিল। এতে সভাপতিত্ব করেন আসাব উদ্দিন।
উল্লেখ্য, মাহফিলের খানকা পরিচালনা করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম দরিয়াবাদী (খলিফায়ে বালাউটি)। শেষে মিলাদ ও মোনাজাতের মাধ্যমে মরহুমসহ সকল মৃত মুমিন-মুসলিমের রূহের মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।