সাপ্তাহিক সবুজ প্রান্ত

সিলেটের ডিসি বদলির সঙ্গে মাজারের সম্পর্ক নেই, সব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়: তথ্য উপদেষ্টা

সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাজারের কোনো ইস্যু বা সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এই প্রশাসনিক রদবদলের সঙ্গে মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার প্রক্রিয়াকে যুক্ত করে অনলাইনে তৈরি হওয়া ধারণাকে তিনি গুঞ্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার তার নিজস্ব এক্তিয়ারের মধ্যে করা সব কাজের ব্যাখ্যা সব সময় দেবে না এবং এর পেছনে কিছু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা থাকতে পারে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমের আকস্মিক বদলি এবং এর প্রেক্ষাপটে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এই কর্মকর্তা যখন মাজারের আয়ের জায়গায় একটি স্বচ্ছতা আনতে চাইলেন, ঠিক তখনই কেন তাঁকে প্রত্যাহার করা হলো এবং ভালো কাজের পরও এই প্রত্যাহারের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।

জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সিলেটের ডিসিকে বদলি করার বিষয়টির সাথে মাজারে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপকে মেলানোর একটি চেষ্টা কেউ কেউ অনলাইনে করছেন। ঘটনাটি একটির পর আরেকটি ঘটেছে বলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি ধারণা (পারসেপশন) তৈরির চেষ্টা হয়তো আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম স্বার্থান্বেষী মহল সব সিদ্ধান্ত নিয়েই উদ্দেশ্যমূলক জল্পনা-কল্পনা করতে থাকে। তবে এই বদলির বিষয়ে ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত সরকারের সেই বক্তব্যই বহাল থাকবে। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় আছে বলে তিনি মনে করেন না।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সাধারণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার যেমন স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করে, ঠিক তেমনই কিছু কাজের ক্ষেত্রে নিজস্ব এক্তিয়ারের মধ্যে সব সময় সব বিষয়ের ব্যাখ্যা সরকার তার জায়গা থেকে দেবে না। এটি নিয়ে কিছু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তাও থাকতে পারে। যেহেতু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাই এর বেশি নতুন করে আর কিছু বলার থাকবে না।

তবে মাজারের আয়-ব্যয়ের সামগ্রিক জবাবদিহির বিষয়ে সাংবাদিকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, সাধারণত দেশের মাজারগুলোতে মানুষ যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে, সেটির একটি স্বচ্ছতা ও সঠিক হিসাব থাকা উচিত। এটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো একটি মাজারের বিষয় নয়, বরং নীতিগতভাবে সব মাজারের ক্ষেত্রেই এই স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সরকারেরও কোনো দ্বিমত থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতরপূর্বতন