সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট আলেম অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১৩ জুন) রাত ১টা ৩০ মিনিটে সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত আলেম ও শিক্ষাবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব ও কর্মময় জীবন সিলেট অঞ্চলের সামাজিক অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
মরহুমের জানাজার সময় ও দাফনের বিষয়ে পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।
</div> </div> উল্লেখ্য, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭ সালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা আবদুল হক চৌধুরী। তিনি সিলেট আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৫৯ সালে দাখিল, ১৯৬৩ সালে আলিম, ১৯৬৫ সালে ফাজিল, ১৯৬৭ সালে কামিল পাস করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এবং একই কলেজে বাংলা অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সিলেট নগরীর মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়ার অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি সিলেট নগরীর পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, মেজরটিলার আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও জালালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদ্রাসা এবং সোবহানীঘাটস্থ জালালাবাদ কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কানাইঘাটের তালবাড়ী 'জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুুুুফিয়া ফাজিল মাদ্রাসা' প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবসায়ী হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি সিলেটের আল-হামরা ইন্টারন্যাশনাল শপিং সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ৯৬ সালের নির্বাচনে মাত্র কয়েক শত ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন।