সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় আমন ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা ব্যাপকভাবে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। পাথর কোয়ারি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্থানীয় শ্রমজীবী অনেক মানুষ জীবিকার খোঁজে বাইরে চলে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই মাঠে শ্রম পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে। এদিকে বিস্তীর্ণ জমিতে একযোগে ধান পেকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় কৃষকেরা মেশিনে ধান কাটার পথ বেছে নিচ্ছেন। মাঠে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, শ্রমিক দিয়ে এক বিঘা ধান কাটতে দুই হাজার পাঁচশ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ লাগলেও মেশিনে খরচ নেমে এসেছে এক হাজার আটশ থেকে দুই হাজার টাকায়। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় সাতশ টাকা সাশ্রয় হওয়ায় চাষিদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমছে। একই সঙ্গে সময়ও বাঁচছে, কারণ মেশিনে যেখানে বিশ থেকে পঁচিশ মিনিটে পুরো কাজ হয়ে যায়, সেখানে শ্রমিক দিয়ে দুই দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
তবে মেশিনের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় অনেকেই সময়মতো মেশিন পাচ্ছেন না। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মধ্যস্থতাকারী ভাড়া প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকায় কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। মেশিন মালিকদের অভিযোগ, ভাড়ার বড় অংশই এসব মধ্যস্থতাকারীর হাতে চলে যায়, ফলে প্রকৃত মালিক খুব কমই পান। কৃষকদের দাবি, এই পদ্ধতি বন্ধ হলে তাদের খরচ আরও কমে আসবে।
এদিকে গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের দোলা। অনুকূল আবহাওয়ায় এ বছর আবাদ বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। শ্রমিক সংকটে অনেকে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও মেশিন ভাড়া আনছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে আমন আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার একশ আশি হেক্টর জমিতে। সরকারি প্রণোদনার আওতায় ২৫০০ কৃষক পেয়েছেন বীজ, ডিএপি এবং এমওপি সার। বর্তমানে উপজেলায় ২৫টি কম্বাইন হারভেস্টার সচল রয়েছে এবং ডিসেম্বরের প্রথম দিন পর্যন্ত ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে ১২ হাজার তিনশ বাষট্টি হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের মতে, যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহারে সময়, শ্রম এবং খরচ— তিন ক্ষেত্রেই কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।
কৃষক মঈন উদ্দিন জানান শ্রমিক না পাওয়ায় মেশিনে ধান কাটতে বাধ্য হয়েছেন, তবে এতে খরচ সাশ্রয় হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন তৈয়ব উল্লাহ। মেশিন মালিক এনামুল হক জানান চলতি মৌসুমে কৃষকদের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
শ্রমিক সংকট থাকলেও মেশিন ব্যবহারের ফলে দ্রুত ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় গোয়াইনঘাটের কৃষকেরা এবার সামগ্রিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।