সাপ্তাহিক সবুজ প্রান্ত

মীলাদুন্নবীকে ব্যঙ্গ করে 'হ্যাপি বার্থডে' বলা শানে রিসালতের অবমাননা নয় কি? : মাওলানা নজমুল হুদা খান


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সম্প্রতি ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.)-কে কটূক্তি করে ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ মন্তব্যকে ঘিরে দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সিলেটের জকিগঞ্জে অবস্থিত শতাব্দীর প্রাচীনতম ইলমি মারকায বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল (এম.এ) মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নজমুল হুদা খান।

তিনি বলেন, “জাতীয় খতীবের সমালোচনা করলে বলা হয় জাতির অপমান হয়। কিন্তু নবী করীম (সা.)-এর মীলাদকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যদি কেউ ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ বলেন, তবে কি এটি রাসূলের অবমাননা নয়? সতর্ক না হলে এ ধরনের বক্তব্য ইহকাল-পরকালীন যিল্লতির কারণ হবে।”

মাওলানা নজমুল হুদা খান আরও বলেন, “মীলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন নিয়ে উলামায়ে কিরামের মধ্যে ইখতেলাফ আছে। পক্ষ-বিপক্ষে বড় বড় হাফিযে হাদীস ও মুহাদ্দিস রয়েছেন। হাফিয ইবন হাজার আসকালানী, সাখাভী, জালালুদ্দীন সুয়ূতীসহ অনেক হাদীস বিশারদ মীলাদ উদযাপনকে জায়িয বলেছেন। তাই একে বিদআত আখ্যা দেওয়ার আগে সতর্কতা জরুরি।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মাযহাবের আলেমরা অনেক বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তবুও কেউ কাউকে বাতিল করেননি। বিদআতের সংজ্ঞা নিয়েও উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং মীলাদ উদযাপন বা না করা নিয়ে কাউকে কাফের বা বাতিল বলার সুযোগ নেই।

মাওলানা নজমুল হুদা খান বলেন, “মীলাদুন্নবীর সাথে ঈদ শব্দ প্রয়োগ নিয়েও অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। দলীলসমৃদ্ধ দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আপত্তির বিষয় নয়। এ ধরনের আপত্তি মূলত দলান্ধতা থেকে আসে।”

ফুলতলী মাসলাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের আয়োজনে শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ নেই। আমরা মীলাদুন্নবীকে স্বতন্ত্র কোনো ইবাদত মনে করি না; বরং নবীজীর আগমন উপলক্ষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে বিভিন্ন নেক আমল করি। আমাদের মাসলাক আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের পথেই আবর্তিত।”

তিনি সবশেষে আহ্বান জানান— উলামায়ে কিরামের মধ্যে যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় থাকে এবং কোনোভাবেই শানে রিসালতের বিরোধী বক্তব্য না আসে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতরপূর্বতন